‘বাংলাদেশের মতো উন্নয়ন ভারত-পাকিস্তানেও হয়নি’- নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন

নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের জাগরণ চলছে। এদেশের মানুষ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপকভাবে সংযুক্ত।







কর্মসংস্থান ও যোগাযোগ অবকাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। এই উন্নয়ন ভারত কিংবা পাকিস্তানসহ প্রতিবেশী অন্য কোনো দেশে হয়নি। এমনকি বাংলাদেশ যতদিন পাকিস্তানের অধীন ছিল, ততদিন এ দেশে এ রকম উন্নয়ন ছিল না।







সোমবার ঢাকায় ‘সমৃদ্ধ ও ন্যায্য সমাজের সন্ধানে অমর্ত্য সেন’ বিষয়ক আলোচনায় এসব কথা বলেছেন তিনি। স্কাইপি সংযোগের মাধ্যমে ভারত থেকে আলোচনায় অংশ নেন তিনি।







অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের সংক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য সতর্কতার কারণে তিনি আসেননি। এ জন্য একাধিকবার দুঃখ প্রকাশ করে অমর্ত্য সেন বলেন, ‘বাংলাদেশ আমার খুবই প্রিয় দেশ। এবার আসতে না পেরে আমি দুঃখিত। আমি বাংলাদেশে অবশ্যই আসব। এ বিষয়ে আলোচনা করব। সম্ভব হলে আগামী সেপ্টেম্বরেই ঢাকায় আসব আমি।’







অমর্ত্য সেন বলেন, বাংলাদেশ বর্তমান সময়ে অর্থনৈতিক অগ্রগতির দিকে যাচ্ছে। বাংলাদেশের এই অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান মেয়েদের। তারা এটা অনুধাবন করতে পেরেছিলেন সমাজচেতনায় নারী-পুরুষের যুক্ত অবদান প্রয়োজন। এই উদ্যোগটিই বাংলাদেশের প্রগতিকে এগিয়ে নিয়েছে।







এ সময় বাংলাদেশের উন্নয়নের পেছনে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এনজিওর অবদানের কথা বলেন অধ্যাপক অমর্ত্য সেন। ব্র্যাক, গ্রামীণ ব্যাংক ও গণস্বাস্থ্যের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি।







ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদের প্রসঙ্গ এনে তিনি বলেন, ‘আবেদ চলে গেছেন। ৭৮ সাল থেকে তার মধ্যে জবাবদিহি ও কর্তব্যবোধ দেখেছি।’







অমর্ত্য সেন আরও বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের পর এনজিওগুলো নারী উন্নয়নে কাজ করেছে। তাদের কর্মসূচির ফলেই সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বেড়েছে। তবে এসব বিষয়ে আরও চিন্তার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে জবাবদিহি ও কর্তব্যবোধের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ।







এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অমর্ত্য সেনের জীবন ও কর্মের ওপর বছরব্যাপী বাংলা ভাষায় অমর্ত্য সেন পাঠচক্রের উদ্বোধন করা হলো। বাঙলার পাঠশালা এর আয়োজক