বিয়ের আগে শা’রী’রিক স’ম্পর্ক নারীর জীবনে ডেকে আনতে পারে এই ভয়ানক ৮টি সমস্যা

আমাদের সমাজে এমন অনেক পুরুষ রয়েছেন যারা শুধুমাত্র নারীদেহ ভোগ করার উদ্দেশ্যেই প্রেমের স’ম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং কাজ হাসিল হয়ে গেলে স’ম্পর্কের দায়ভার নিতে চান না।

নারীরাও যে এমন করে না তা নয়, তবে তুলনামূলকভাবে এমন নারীর সংখ্যা কম। আশংকার ব্যাপার হচ্ছে আজকাল অনেক উঠতি বয়সী মেয়েই এই ধরণের শারীরিক স’ম্পর্ককে আধুনিকতা মনে করে থাকে।

অথচ বিয়ের আগে শারীরিক স’ম্পর্কের ফলে যে সমস্যা দেখা দেয়, তা পোহাতে হয় নারীদেরকেই!

মোদ্দাকথা হলো, বিয়ের আগে শারীরিক স’ম্পর্ক নারীদের ঠেলে দিতে পারে ঝুঁ’কির মুখে, তাদের জীবনে ডেকে আনতে পারে নানাবিধ মা’রাত্মক সমস্যা। তাই সাবধান হোন এবং জেনে নিন অনাকাঙ্খিত সমস্যাগুলো স’ম্পর্কে।

অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণ: বিয়ের আগে শারীরিক স’ম্পর্কের সবচেয়ে ভয়াবহ যে সমস্যাটি হতে পারে তা হলো অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণ। নিরোধক ব্যবহারের পূর্ব পরিকল্পনা না থাকা, আবেগের বশে হঠাত্‍ করেই যৌ’ন স’ম্পর্ক করা ইত্যাদি এর অন্যতমত কারণ।

শারীরিক স’ম্পর্কের চিহ্ন ধারণ করে সাধারণত মেয়েরাই। কোনো মেয়ের শারীরিক স’ম্পর্ক হয়েছে কি না তা ডাক্তারি পরীক্ষার মাধ্যমে সনাক্ত করা যায়, কিন্তু ছেলেদের যায় না। একইভাবে গর্ভধারণের যাবতীয় সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হয় শুধু মেয়েদেরই। এর ফলে পরিবার, সমাজ এবং নিজের কাছে অ’প’রাধী হতে হয় নারীদের।

ঝুঁ’কিপূর্ণ গর্ভপাত: বিয়ের আগে শারীরিক স’ম্পর্কের ফলে গর্ভধারণ করে ফেললে তখন গর্ভপাত করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। গর্ভপাত একটি ঝুঁ’কিপূর্ণ প্রক্রিয়া। এতে যেমন শারীরিক ক্ষতি হয় তেমনি মানসিক ক্ষতির সম্মুখীনও হতে হয়। \

গর্ভপাতের সময় অ’তিরিক্ত র’ক্তক্ষরণসহ নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা হতে পারে। এর দীর্ঘমেয়াদী কুফলও রয়েছে। যেমন পরবর্তীতে গর্ভধারণে সমস্যা হওয়া বা গর্ভধারণ করতে না পারা ইত্যাদি।

প্রথম সন্তান জন্ম’দানের আগে গর্ভপাতের ঘটনা ঘটলে পরবর্তীতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সন্তান ধারনে সমস্যা দেখা দেয়। গর্ভপাতের মানসিক ক্ষতিও কম নয়। সন্তান হারিয়ে অনেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এমনকি অনেকে বিকারগ্রস্ত পর্যন্ত হয়ে পড়ে।

জন্মনিয়ন্ত্রণের পিল ও অন্যান্য ঝুঁ’কি: বিয়ের আগে শারীরিক স’ম্পর্কের কারণে অনেকেই জন্মনিয়ন্ত্রণের পিল বা অন্যান্য ওষুধ গ্রহণ করে থাকে। অনবরত জন্মনিয়ন্ত্রণের পিল গ্রহণ অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণ রোধ করলেও ডেকে আনতে পারে মা’রাত্মক সব সমস্যা। এর মধ্যে অন্যতম হলো সন্তানধারণের ক্ষমতা হা’রানো।

প্রথম সন্তান জন্মের আগেই দীর্ঘদিন পিল গ্রহণের ফলে পরবর্তীতে গর্ভধারণে ঝুঁ’কি হতে পারে, হতে পারে বারবার গর্ভপাতের সমস্যা। এছাড়া হরমোনের সমস্যা, মুটিয়ে যাওয়া, খাবারে অনীহা,সন্তান উৎপাদনে অক্ষম হয়ে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

অ’প্রাপ্ত বয়সে শারীরিক স’ম্পর্কে জড়ানোর ঝুঁ’কি: বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে শারীরিক বিষয়াবলির প্রতি আকর্ষণ জন্মায়।

ফলে প্রেমের স’ম্পর্কে কোনো কিছু না ভেবেই শারীরিক স’ম্পর্কে জড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা তাদের মধ্যে দেখা যায় বেশি। কিন্তু অ’পরিণত বয়সে শারীরিক স’ম্পর্কের পরিণতি হতে পারে মা’রাত্মক।

এর ফলে হতে পারে যৌ’নসংক্রমণ, ক্যানসারের মতো ভয়াবহ সব রোগ। বিশেষ করে কমবয়সী মেয়েরা থাকে হুমকির মুখে। জরায়ুমুখ সংক্রমণ ও জরায়ুমুখ ক্যানসারের ঝুঁ’কি থাকে সর্বোচ্চ।

মানসিক ভীতি: বিয়ের আগে শারীরিক স’ম্পর্ক মানে প্রথমবারের মতো যৌ’ন স’ম্পর্ক স্থাপন। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এই কাজটি প্রেমিক যুগলেরা করে থাকে লুকিয়ে, যা পরবর্তীতে একজন নারীর জন্য মানসিক ভীতি বা বিকারের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বিশেষ করে অনেক ক্ষেত্রেই প্রেমিকেরা অ’প্রাপ্ত বয়স্ক প্রেমিকাকে চাপ প্রয়োগ করে মিলিত হয়ে থাকে। পরে স’ম্পর্কটি ভেঙে গেলে এসব অনেক মেয়ের ওপর এমন মানসিক চাপ ফেলে, যা ক্রমশ বিকারে রূপ নেয়।

যেমন শারীরিক স’ম্পর্কে অনীহা বা ভীতি, বিবাহভীতি, পুরুষদের প্রতি ঘৃ’ণা বা ভয় ইত্যাদি। এর ফলে যেমন প্রেমের স’ম্পর্ক ভেঙে যেতে পারে, তেমনি ভাঙন আসতে পারে বিয়ের স’ম্পর্কেও।

বিয়ের পর দাম্পত্যে সমস্যা: বিয়ের আগে প্রেমিকের সাথে শারীরিক স’ম্পর্কে জড়ালে দাম্পত্যজীবনেও দেখা দিতে পারে নানা সমস্যা। নারীরা হতে পারেন স্বামীর অবিশ্বা’সের পাত্র। এমনকি প্রেমিকের সাথে বিয়ে হলেও তিনি করতে পারেন নানা রকমের দোষারোপ, করতে পারেন চরিত্র নিয়ে সন্দেহ।

ঝগড়ার সময় হয়তো কথায় কথায় বলে বসতে পারেন যে, তার সাথে যেহেতু বিয়ের আগে শারীরিক স’ম্পর্ক ছিল এমনি হয়তো আরো অনেকের সাথেই ছিল। মোট’কথা, দাম্পত্যের প্রতিটি পদে নারীকে শুনতে হতে পারে নানা রকমের কটু কথা।

দাম্পত্যে আকর্ষণ হা’রানো: অনেক ভালোবাসার স’ম্পর্ক পায় বিয়ের পরিণতি। যেহেতু স্বামীর সঙ্গে বিয়ের আগে থেকেই শারীরিক স’ম্পর্ক থাকে, তাই অনেকেই দাম্পত্যজীবনে হারিয়ে ফেলতে পারেন আকর্ষণ। স্বামী-স্ত্রী’ পরস্পরের কাছ থেকে নতুন কিছু পাবার থাকে না বলে বিয়ের স’ম্পর্কে বাজতে পারে ভাঙনের সুর।

অনেকে বাগদান বা আংটি বদল সম্পন্ন করে একটি দৃঢ় বন্ধন তৈরি হয়েছে ভেবে শারীরিক স’ম্পর্কে জড়িয়ে যান। বাগদানের পর বিয়ে ভাঙার ঝুঁ’কি তো থাকেই, সাথে রয়ে যায় দাম্পত্য আকর্ষণহীন হয়ে যাবার শ’ঙ্কা’টাও।

সামাজিক লাঞ্ছনা: বিয়ের আগে শারীরিক স’ম্পর্কের কথা জানাজানি হলে নারীরা হন নানা রকম লাঞ্ছনা-গঞ্জনার শিকার। সমাজ তাকে অ’প’রাধীর দৃষ্টিতে দেখে।

তার জীবন হয়ে ওঠে বিষময়। অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণ করলে এবং সেটার কথা জানাজানি হলে ফলাফল হয় ভয়াবহ। মেয়েটি সামাজিকভাবে হয়ে যায় একঘরে। পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব সকলেই দূরে চলে যায়, তাকে পাপীর দৃষ্টিতে দেখে। ফলে সুষ্ঠুভাবে বাকি জীবন কা’টানো অসম্ভব হয়ে যায়, জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিসহ।