পেঁপের বীজে এত গুণ !

পেঁপেকে পুষ্টির রত্নঘর বলা হয়। শিশুদের কাছে পছন্দের ফল না হলেও স্বাস্থ্য সচেতন ব্যক্তিদের কাছে এটি জনপ্রিয়। সাধারণত পাকা পেঁপে আমরা বীজ ও ছাল ফেলে খাই। কিন্তু অনেকের কাছে এটা অজানা যে পেঁপের বীজে রয়েছে উচ্চ পুষ্টিগুণ ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান।

এটি ফ্লেভনয়েড ও পলিফেনরস এর উৎস, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং শরীরের বিকাশে সাহায্য করে। এ ছাড়া পেঁপের বীজে রয়েছে ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফাইবার, প্রোটিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এগুলো শরীরের বাড়তি মেদ কমাতে ভূমিকা রাখে।

পেঁপের বীজের গুণ সম্পর্কে জানিয়েছে জীবনধারাবিষয়ক সাময়িকী বোল্ডস্কাই।

আসুন জেনে নিই সে সব গুণ সম্পর্কে….

হজমশক্তি বাড়ায়-

গবেষণায় প্রমাণিত, পেঁপের বীজের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে তা হজমশক্তি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি পরিপাক নালীকে চনমনে রাখে। ফলে দ্রুত হজম হয়। এতে পাকস্থলির উপর চাপও কম পড়ে।

ক্যানসার প্রতিরোধে-

পেঁপের বীজে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যানসার বিরোধী। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, পেঁপের বীজে ক্যানসার সেলের বৃদ্ধি রোধ করে এবং প্রদাহ কমায়।

লিভার পরিষ্কার করে-

পেঁপের মধ্যে ডিটক্সের গুণ রয়েছে, যা লিভার ভালো রাখতে সাহায্য করে। কাজেই যারা লিভারের সমস্যায় ভুগছেন কিংবা না-ভুগলেও লিভার ভালো রাখতে চান তারা নিয়মিত পেঁপে খান।

লিভার রোগীদের জন্য উপকারী-

বহু গবেষণায় দেখা গেছে, ফ্যাটি লিভার বা লিভার সিরোসিসে যারা ভুগছেন, তাদের জন্য পাকা পেঁপের দানা খুব ভালো ওষুধ। রোজ এক চামচ করে পেঁপে বীজ গুঁড়ো করে খান। এটি লিভারকে ডিটক্সিফাই করবে। এর পাশাপাশি খাওয়া দাওয়ায় ও লাইফস্টাইলে কিছু পরিবর্তন আনুন। তবে ভালো ফল পেতে চাইলে সবার আগে মদ্যপান বন্ধ করুন।

কিডনি ফিট রাখে-

লিভারের মতো কিডনি থেকেও ক্ষতিকারক জিনিস বের করে দেয় পাকা পেঁপের বীজ। কাজেই কিডনির সুরক্ষায় নিয়মিত এই খাবারটি খাওয়ার চেষ্টা করুন।

উচ্চ রক্তচাপ কমায়-

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, পাকা পেঁপের পাশাপাশি এর বীজও হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। পেঁপেতে থাকা কারপেইন নামে বিশেষ এক যৌগ উচ্চ রক্তচাপ কমায়। কাজেই যারা হাইপ্রেসারে ভুগছেন, তারা বেশি করে পেঁপে খান।

প্রাকৃতিক গর্ভনিরোধক-

প্রাকৃতিক গর্ভনিরোধক হিসেবে পাকা পেঁপের বীজের ব্যবহার বহুল প্রচলিত। গর্ভবতী হতে চাইলে ওই সময়ে পেঁপের বীজ মোটেই খাওয়া ঠিক নয়। আবার পুরুষদেরও স্পার্ম কাউন্ট কমিয়ে দেয় এই দানা। কাজেই যৌবনকালে কোনো পুরুষেরই একটানা পেঁপের বীজ খাওয়া ঠিক নয়।

জেনে নিন খালি পেটে চা খাওয়ার ক্ষতিকর দিক
শরীরের অবসন্ন ভাব আর কাজের চাপে তৈরি হওয়া একঘেয়েমি দূর করতে চায়ের কোনো তুলনা হয় না। শরীরকে চাঙ্গা করতে তাই বেশিরভাগ মানুষই চা ছাড়া আর কিছু ভাবতে পারেন না। তাদের কাছে অতিরিক্ত চা পান যেন একটা নেশার মতো।

চা পানের ভালো দিকের কোনো কমতি না থাকলেও এর কোনো খারাপ দিক নেই যে তাও কিন্তু না। বিশেষ করে খালি পেটে চা খাওয়ার কিছু ভয়ানক দিকও রয়েছে। তবে জেনে নিন খালি পেটে চা খাওয়ার খারাপ দিকগুলো:

১. খালি পেটে চা খেলে গ্যাসট্রিকের সমস্যা বাড়তে পারে। যারা এরইমধ্যে গ্যাসট্রিকে ভুগছেন তাদের সমস্যা আরও প্রকট হতে পারে।

২. খালি পেটে চা খেলে চায়ে থাকা ট্যানিন শরীরে বমি বমি ভাব বা ওই রকম অস্বস্তি তৈরি করে।

৩. দিনে ৪ থেকে ৫ কাপের বেশি চা খেলে পুরুষদের প্রস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যাতে পারে। খালি পেটে খেলে এ আশঙ্কা আরও বাড়ে।

৪. খালি পেটে কড়া চা খাওয়ার অভ্যাস আলসারের ঝুঁকি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়।

৫. খালি পেটে চা খাওয়ার অভ্যাস শরীরের প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের সক্রিয়তা কমিয়ে দেয়। ফলে শরীর তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় না।