মহম্মদপুরে ১৫ কিলোমিটার রাস্তা বেহালদশা, জনদূর্ভোগ চরমে

মহম্মদপুর উপজেলার পাল্লা থেকে চরগয়েশপুর গ্রামের ১৫ কিলোমিটার রাস্তার জন্য প্রায় ৬০ হাজার মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিনই হাজার হাজার পথচারী, স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থী চলাচল করে। দীর্ঘ পনের বছর চলাচলের একেবারই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে রয়েছে রাস্তাটি।

রাস্তাটির কারণে এলাকাবাসীর জনদূর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। প্রায় ৮০ ভাগ যায়গারই ইট উঠে গেছে। দেড়যুগ ধরে রাস্তাটিতে কোন সংস্কারের কাজ হয় নাই। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি সংস্কার করণের দাবি এলাকাবাসীর থাকলেও তাদের ডাকে সাড়া দেননি কোন জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কেউ। যুগের পর যুগ ধরে শুধু মেপেইে আসছে সংস্কারের বালাই নেই বলে রাস্তাটি এখন গ্রামবাসীর গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, পাল্লা, কোমরপুর, দাতিয়াদহ, হরিনাডাঙ্গা, রায়পুর, মাধবপুর, আকসার চর, চুড়ালগাতি, চর-পুকুরিয়া, চরসেলামতপুর, রঘুনাথপুর, বাবুখালী, গয়েশপুর, চর-গয়েশপুরসহ প্রায় ১৫-২০ গ্রামের লোকজনের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা এটি।

এছাড়া পার্শ্ববর্তী উপজেলার লোকজন এ রাস্তাটি দিয়ে যাতায়াত করে। সাইকেল, মোটরসাইকেল বা ভ্যান তো দূরের কথা পায়ে হেঁটেও চলাচল করার অনুপযোগী হয়ে গেছে। গ্রামের কোন কন্যার বিয়ে হলে অনেক দূরে গাড়ি রেখে পায়ে হেঁটে বরযাত্রীদের আসা যাওয়া করতে হয় এমনকি বাড়িঘর ফেলে রেখে অন্যত্র বিয়ের কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হয়।

এছাড়া আবার কারো কারো বিয়ে ভেঙ্গেও গেছে বলে জানায় স্থানীয়রা। এসব এলাকার ছেলে-মেয়েরা ঠিকমত লেখা-পড়া করতে পারে না কারণ অনেক দূরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আবার অনেকের পড়া-লেখা বন্ধ হয়ে গেছে।

পাল্লা গ্রামের তৃষ্ণা রানীসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী স্থানীয় পাল্লা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে। তারা জানায়, রাস্তার যে অবস্থা হয়েছে তাতে স্কুলে ও প্রাইভেট পড়তে যেতে মন চায় না। কারণ রাস্তা দিয়ে কোন যানবাহনই চলাচল না করায় পায়ে হেঁটে প্রতিদিনই স্কুল ও প্রাইভেট পড়তে যেতে হয়। মাঝে-মাঝে পড়ালেখা ছেড়ে দিতে মন চায়।

একই গ্রামের ওয়াজেদ শেখ বলেন, রাস্তার দেখলে মনে হয় এলাকা ছেড়ে অন্যত্র ঘড়-বাড়ি বানায়। তিনি বলেন, প্রায় ১৫-২০ বার দেখেছি লোকজন এসে রাস্তা মেপে যাচ্ছে। কিন্তু সংস্কারের কোন কাজ হতে দেখলাম না এ যাবত। আমাদের দুঃখ কেউ বুঝল না।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম হিরু মিয়া জানান, রাস্তাটার অবস্থা দীর্ঘদিন যাবত খারাপ। একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে রাস্তাটি। উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার অফিসকে কয়েকবার বিষয়টি জানানো হয়েছে।

উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী বিকাশ চন্দ্র নন্দি বলেন, রাস্তাটি সংস্কারের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। অচিরেই সংস্কারের কাজ শুরু হতে পারে বলে তিনি জানান।