বিকেলে বাড়ি যাওয়ার আকুতি, রাতে পাওয়া গেল লা’শ

আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও। না হলে ওরা আামাকে মে’রে ফেলবে…’। সোমবার বিকেলে নিজের বোনকে ফোন করে বাঁ’চার আকুতি জানান এক গৃহবধূ। এমন আকুতির পর সোমবার রাতেই বোনের কথামতো বোনকে নিতে এসে পাওয়া গেল লা’শ। প্রিয় বোনকে বিছানায় পড়ে থাকতে দেখা যায় লা’শ হয়ে। করুণ ও হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজে’লায়। নি’হত গৃহবধূর নাম সুমাইয়া আক্তার বর্ষা (২১)।

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী’ সুমাইয়া আক্তার বর্ষাকে শারীরিক নি’র্যাতনের পর শ্বা’সরোধে হ’ত্যা করে স্বামী মোস্তাফিজুর রহমান নয়ন। সোমবার রাত ১১টার দিকে জে’লার বন্দর উপজে’লার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের আলী সাহারদী এলাকায় এ হ’ত্যাকা’ণ্ড ঘটে। এদিকে হ’ত্যাকা’ণ্ডের পরপরই নি’হত গৃহবধূ বর্ষার স্বামী মোস্তাফিজুর রহমান নয়নকে আ’ট’ক করেছে পু’লিশ।

নি’হত বর্ষার স্বজনরা জানান, ২০১৩ সালে আলী সাহারদী এলাকার শহিদুল্লাহ মিয়ার ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান নয়নের সাথে রাজধানীর কদমতলী থা*নার দনিয়া শরাইল এলাকার বাসিন্দা মনজুর ভূঁইয়ার বড় মেয়ে সুমাইয়া আক্তার বর্ষার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্র বাবদ দশ লাখ টাকা খরচ করে বর্ষার পরিবার। বর্ষার সংসারে সাড়ে চার বছরের একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে।

বর্ষার বাবা মনজুর ভূঁইয়ার অ’ভিযোগ, গত প্রায় এক বছর আগে নিজের জমি বিক্রি করে বেশ কিছু টাকা হাতে পান তিনি। সেই টাকা নিজের ব্যবসায় বিনিয়োগ করে ফেলেন। তবে জমি বিক্রি করে তিনি টাকা পেয়েছেন সেই খবর জানতে পেরে মেয়ের জামাতা নয়ন ব্যবসা করার অজুহাতে বর্ষার মাধ্যমে তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। এ নিয়ে নয়ন ও বর্ষার মধ্যে পারিবারিক ক*লহ চলছিল। দাবি’কৃত সেই টাকা এখন পর্যন্ত না দেয়ার কারণে স্ত্রী’ বর্ষার উপর বেশ কিছুদিন ধরে মা’রধরসহ নানাভাবে শারীরিক নি’র্যাতন করে আসছিল অ’ভিযুক্ত নয়ন। গত কোরবানির ঈদের কয়েকদিন আগে থেকে এ পর্যন্ত প্রতিদিনই বর্ষাকে মা’রধর করতো নয়ন। দাবি’কৃত টাকার অজুহাতে সোমবার রাতে নয়ন নিজের স্ত্রী’ বর্ষাকে আবারো মা’রধর করে এবং একপর্যায়ে শ্বা’সরোধ করে হ’ত্যা করে।

খবর পেয়ে বন্দর থা*না পু’লিশ নি’হত বর্ষার লা’শ উ’দ্ধার করে ময়নাত’দন্তের জন্য সদরের জেনারেল হাসপাতালের ম’র্গে পাঠায়। পরে বর্ষার পরিবারের অ’ভিযোগের ভিত্তিতে অ’ভিযুক্ত নয়নকে আ’ট’ক করে পু’লিশ।

বর্ষার ছোট বোন মীম জানায়, সোমবার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে বর্ষা তাকে ইমোতে ফোন করে খুব কা’ন্নাকাটি করে। এ সময় স্বামী নয়ন প্রতিদিন মা’রধর করাসহ শারীরিক নি’র্যাতন করে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জ’খম করেছে বলে অ’ভিযোগ করে বর্ষা। এই বাড়িতে থাকলে মা’রধর করে মে’রে ফেলবে এই ভয়ে তাকে স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য বোনকে অনুরোধ করে বর্ষা।

বন্দর থা*নার ওসি মোঃ রফিকুল ইস’লাম জানান, নি’হত বর্ষার লা’শের সুরতহাল পর্যবেক্ষণে গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আ’ঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে বর্ষার বাবা মনজুর ভূঁইয়া বাদী হয়ে বর্ষার স্বামী নয়নকে আসামী করে একটি হ’ত্যা মা’মলা দায়ের করেছেন। সেই মা’মলা গ্রহণ করে বিষয়টি ত’দন্ত করা হচ্ছে। লা’শের ময়নাত’দন্তের প্রতিবেদনের পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।